কিশোরগঞ্জের পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পঞ্চবটি বউ বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক সংগঠন “মাদক বিরোধী আমাদের চেষ্টা”র বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড তাঁতি দলের সভাপতি মোঃ ইউসুফকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে রাতে “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওগুলোতে কথিতভাবে ইউসুফ ও ফাতেমা নামে দুই ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ মাদক লেনদেন ও হুমকিমূলক কথোপকথনে জড়িত দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিও প্রকাশের পরপরই বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগে বলা হয়, ইউসুফ স্থানীয় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি “মাদক বিরোধী আমাদের চেষ্টা” সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ৩নং ওয়ার্ড তাঁতি দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সামাজিক সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
“মাদক বিরোধী আমাদের চেষ্টা” সংগঠনের সভাপতি ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু বলেন, ইউসুফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও জনসেবা সঞ্চয় ঋনদান সমিতির সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, “কেউ আত্মীয় হলেই তার অপরাধের দায়ভার আমি নেব না। যে অপরাধ করবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হওয়া উচিত।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। ইউসুফ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুর পক্ষেও কাজ করেছে। এখন সে ওয়ার্ড তাঁতি দলের সভাপতি। আমি মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো, আওয়ামী লীগের দালাল ইউসুফকে যেন দ্রুত বহিষ্কার করা হয়।”
এদিকে ভৈরব পৌর তাঁতি দলের সভাপতি ছগির আহমেদ বলেন, “মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলমের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মাদক কারবারিকে সংগঠনের কোনো পদে রাখা যাবে না। ইউসুফ ৩নং ওয়ার্ড তাঁতি দলের সভাপতি। আমরা ১-২ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করবো। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।”
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও গুলো আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম সমাজের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার না হয়। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটন দাবি জানিয়েছেন।


