একাধিক বিয়ে, স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, নির্যাতন এবং গোপনে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে আদালতে মামলা করেছেন তার দুই স্ত্রী।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের আবীর হোসেনের মেয়ে আবিরা আফরিনের সঙ্গে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ভাটকুড়ী গ্রামের মো. শাহীনুর রহমানের বিয়ে হয় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই। ইসলামিক শরিয়ত অনুযায়ী ৫১ হাজার ২২০ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হলেও এর মধ্যে মাত্র ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
অভিযুক্ত শাহীনুর রহমান বর্তমানে বগুড়া সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। বিয়ের পর তিনি স্ত্রীকে বগুড়া শহরের কৈগাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, শাহীনুর রহমানের আগের স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলা মীমাংসার কথা বলে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী ব্যাংক ও পরিবারের সহায়তায় টাকা সংগ্রহ করে স্বামীকে দেন।
মামলায় আরও বলা হয়, পরবর্তীতে শাহীনুর রহমান আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এমনকি মামলা করলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি শাহীনুর রহমান তাকে গোপনে তালাক দেন। তবে তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে আরও কয়েকদিন সংসার চালিয়ে যান। পরে ডাকযোগে তালাকের কাগজ পাঠানো হয়।
দ্বিতীয় স্ত্রী বলেন, “আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
অন্যদিকে, শাহীনুর রহমানের প্রথম স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের বিয়ে হয় ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি। ওই সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ, মারধর ও হুমকি শুরু হয়। বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র আত্মসাৎ করে একপর্যায়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার দাবি, শাহীনুর রহমান তার কাছ থেকেও প্রায় ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “১২ বছরের সংসার রেখে সে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আমাকে তালাক দেয়। আমি এই প্রতারকের কঠোর শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল ছুটিতে আছেন। আদালতে মামলা হওয়ায় অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
পড়ুন : ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ছাত্রশিবিরের কমলাবাড়ি ইউনিয়ন সভাপতির পদত্যাগ


