বিজ্ঞাপন

খুলনায় র‍্যাবের গাড়িতে হামলা, আটক দুই আসামি ছিনিয়ে নিল জনতা

খুলনার দাকোপ উপজেলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরে র‍্যাবের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় র‍্যাবের হেফাজত থেকে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে চালনা আছাবুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোণা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৪০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল্লাহ ফকির ও বাচ্চু ফকির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।

আহতরা হলেন, জসিম মোল্যা (৩২), হাফিজুর মোল্যা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার (৫৪)। আহতদের দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর শনিবার সকালে র‍্যাব-৬ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মুকুন্দ মন্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে।

তবে আটকদের নিয়ে যাওয়ার পথে চালনা এলাকায় উত্তেজিত জনতা র‍্যাবের গাড়ি ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দুপুরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফর হোসেন দাবি করেন, বিতর্কিত জমিটি ভূমিহীনদের দখলে ছিল। র‍্যাব মিছিল থেকে লোকজনকে আটক করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তারা জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাশার জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

খুলনা জেলা পুলিশের এডিশনাল পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনিসুজ্জামান জানান, র‍্যাবএই অভিযানে স্থানীয় থানা পুলিশকে না জানিয়ে এবং পুলিশের কোন সহযোগিতা না নিয়ে এলাকাবাসীদের মানববন্ধন থেকে দুই জনকে আটক করলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুত্রপাত হয়। তিনি বলেন, দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলের জনরোষ থেকে র‍্যাব সদস্যদের নিরাপদে থানায় নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের কে নিয়ে থানায় একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এদিকে স্থানীয়রা বিকাল থেকে প্রতিবাদ করে আওয়ামিলীগ নেতার মিথ্যা মামলায় র‍্যাব অতিউৎসাহী হয়ে মানববন্ধন থেকে তাদের দুইজনকে আটক করেছে। পুলিশ জানায় বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব এর উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে স্থানীয়দের সাথে থানায় একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পড়ুন : টেন্ডার না পেয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে মিলছে ভিন্ন চিত্র

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন