ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শুকনো ডাল কাটার মৌখিক অনুমতি নিয়ে শতবর্ষী তরতাজা একটি রেইনট্রি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন হোসেনের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় শ্রমিক দিয়ে এসব গাছ কাটা শুরু হয়। এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে গাছ কাটা আপাতত বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের নতুন বাজার এলাকায় দুটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছের দুটি শুকনো ডাল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা কাটার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেয়া হয় এবং এ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন হোসেনকে। তিনি গত মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে গাছের ডাল কাটা শুরু করেন। কিন্তু যে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল দেখিয়ে অনুমতি নেয়া হয় সেগুলো শনিবার পর্যন্ত কাটা হয়নি। কিছু কাটা ডাল তিনি ইতিমধ্যে বিক্রি করেছেন কালীগঞ্জের কিছু কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ জানান, এই শতবর্ষী গাছ গুলো আমাদের কালীগঞ্জের ঐতিহ্য। তরতাজা এই গাছ গুলো এভাবে কেটে ফেলা চরম অন্যায়। এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে আমরা এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন বলেন, ওই এলাকার বাবলু হোসেন নামের একজন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। অফিস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এটি দেখভাল করার জন্য। সেখান থেকে কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে বাবলু হোসেন জানান, বাসার সামনের গাছের একটি ডাল আমার তিনতলা ভবনের ছাদের অনেক ক্ষতি করছে। ডালটি কাটার জন্য কিছুদিন আগে জেলা পরিষদে আবেদন করি। জেলা পরিষদের মিল্টন নামের এক ব্যক্তি শ্রমিক দিয়ে ডালগুলো কেটে দেন। এ জন্য তিনি আমার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকাও নিয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। পুনরায় যদি আর একটি ডাল কাটা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, সড়কের পাশের গাছের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ শুকনো ডাল কাটার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়ে মিল্টন নামের অফিসের এক কর্মচারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। শুকনো ডালের পরিবর্তে তরতাজা গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।
গাছের ডাল বিক্রির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এটা সে করতে পারে না। গাছের সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা। যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন- খুলনায় র্যাবের গাড়িতে হামলা, আটক দুই আসামি ছিনিয়ে নিল জনতা


