বিজ্ঞাপন

ফকিরহাটে বালতির পানিতে চুবিয়ে ৭ বছরের শিশু হত্যার অভিযোগ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে বালতির পানিতে চুবিয়ে আবু তালহা নামে ৭ বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার লখপুর এলাকায় ঘটেছে।

নিহত শিশু উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া এলাকার সৈকত শেখের ছেলে।

নিহতের সৎ মা রুকাইয়া শিকদারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে মরদেহের সুরোতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেন। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ময়না তদন্তের মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত আবু তালহার নিজের মা মনিরা বেগম এক বছর আগে স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে অন্য একজনকে বিবাহ করে সংসার ত্যাগ করেন। মা অন্যত্র চলে গেলে বাবাও দ্বিতীয় বিবাহ করে স্ত্রীকে নিয়ে লখপুর ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন।

বিজ্ঞাপন

বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ির পর আবু তালহা তার দাদা সিরাজুল ইসলামের কাছে থাকে। গত ৪ দিন আগে আবু তালহার তার বাবা এবং সৎ মায়ের কাছে বেড়াতে যায়।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টার দিকে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার ওই শিশুকে এক ফুট একটি বালতির পানির ভেতর উল্টো করে পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। এসময় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

খবর পেয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মাইদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো: রাসেদুল ইসলাম রানা এবং ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেনসহ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।

নিহত শিশুর নিজের মা মনিরা বেগম জানান, তিনি সকালে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলে অসুস্থ্য। খবর পেয়ে এসে দেখেন তার ছেলে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তার ছেলেকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হতে পারে জানান।

শিশুটির সৎ মা রুকাইয়া শিকদার জানান, সকালে তিনি একটা কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে এসে দেখেন ওই শিশু বালতির ভেতর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

শিশুটির বাবা সৈকত শেখ জানান, তিনি বাইরে কাজে ছিলেন। খবর পেয়ে বাসায় এসে দেখেন তার ছেলে আর বেঁেচ নেই। ছেলেকে কেউ মেরে ফেলতে পারে বলে তিনি দাবী করেন।

বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, শিশুটির মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির সৎ মা কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পড়ুন : এবার টাঙ্গাইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আসামী পলাতক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন