যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা অভিমুখী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের নৌবহর নিয়ে ঠাট্টা করায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। শনিবার ফ্রান্সের সরকারি এক বিবৃতিতে বেন গভিরের ওপর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারট বলেছেন, আজ থেকে ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশে ইতামার বেন গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। গাজা অভিমুখী মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা নৌবহরের ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি নিন্দনীয় আচরণের দায়ে তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফরাসি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে এই উগ্র-ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) স্তরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
গত বুধবার বেন গভির নিজের অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে ফ্লোটিলা থেকে আটক করা বিদেশি মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি ইসরায়েলি হেফাজতে অত্যন্ত নির্মম আচরণ করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার জের ধরে বেন গভিরের বিরুদ্ধে ওই পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স। আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যরা ওই মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে হেফাজতে নেয়।
বেন গভিরের শেয়ার করা ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, কয়েক ডজন কর্মীকে মাটিতে হাঁটু গেড়ে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের হাত পেছন থেকে বাঁধা। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ইসরায়েলে স্বাগতম। সেখানে বেন গভিরকে একটি ইসরায়েলি পতাকা ওড়াতে ওড়াতে আটক কর্মীদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করতে দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পরবর্তীতে ইসরায়েল জানায়, তারা ওই বিদেশি কর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।
গত মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনিপন্থী একটি ত্রাণ বহর অবরুদ্ধ হওয়ার পর এটি ছিল গাজার ওপর ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙার সর্বশেষ প্রচেষ্টা। এবারের এই বহরে মোট ৩৬ জন ফরাসি নাগরিক ছিলেন।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ফ্রান্স এই ফ্লোটিলার অভিযানকে সমর্থন করে না এবং তাদের এই পদক্ষেপ কোনও কাজে আসেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তবে আমরা কোনোভাবেই ফরাসি নাগরিকদের এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি বা নির্মমতার শিকার হওয়া বরদাশত করতে পারি না; বিশেষ করে যখন সেটি কোনও সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা ঘটে।
ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেনও ইইউয়ের প্রতি বেন গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো তাগিদ দিয়েছে। অন্যদিকে, এমন উসকানিমূলক ভিডিও প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সমালোচনার মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি বেন গভিরের এই আচরণ ইসরায়েলের মূল্যবোধ ও রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে তিনি এই উগ্রপন্থী নিরাপত্তা মন্ত্রীকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেননি।
পড়ুন : তেলাপোকা জনতা পার্টির ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিলো ভারত সরকার


