তরুণদের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ে রেড হোপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা, সামাজিক উদ্যোগ এবং “লাল নদী” ব্লাড ডোনেশন ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৩ মে শনিবার রাজধানীর পূর্বাচল, সেক্টর-১৬ এ অবস্থিত গ্রামীণ বিলাস রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও তরুণ নেতৃত্বভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ইয়ুথ এসেমব্লী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মঈন উদ্দিন জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজেক্ট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা: মাহিদুল ইসলাম জিহাদ, নিকুঞ্জ সমাজকল্যাণ ঐক্যের সিনিয়র মেম্বার জিয়াউর রহমান, গ্লোবাল ইয়ুথ এসেমব্লী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম, মোমেলা বেগম তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মো: সেলিম খান এবং ডুমনি হাই স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি মো: নূর ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেড হোপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলিফ হাসান হৃদয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিদের পরিচিতি পর্ব ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “লাল নদী” ব্লাড ডোনেশন ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতাদের মধ্যে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ স্থাপন সহজ হবে। একই সঙ্গে জরুরি মুহূর্তে নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা: মাহিদুল ইসলাম জিহাদ বলেন, “রক্তদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মানবিক সেবাকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। বর্তমানে যেমন মানুষের ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ থাকে, তেমনি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ‘লাল নদী’ অ্যাপটিও সবার ফোনে থাকা প্রয়োজন।”
জিয়াউর রহমান বলেন, “দেশ গঠনে তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের সামাজিক ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
লাল নদী অ্যাপের ডেভেলপার মো: নজরুল ইসলাম অ্যাপটির সার্বিক কার্যকারিতা, ব্যবহারবিধি ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়াও হাফেজ মো: সেলিম খান, মো: নূর ইসলামসহ অন্যান্য অতিথিরা মানবিক কার্যক্রমে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি মঈন উদ্দিন জাহাঙ্গীর তার বক্তব্যে বলেন, “গ্লোবাল ইয়ুথ এসেমব্লী বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে রেড হোপ ফাউন্ডেশনের সদস্যদের জন্যও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে আলিফ হাসান হৃদয় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “রেড হোপ ফাউন্ডেশনের একটি স্থায়ী তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর্থিক চাপ বহন করতে না হয়। রক্তদাতাদের যাতায়াত ও রক্তদানসংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় ব্যয় ভবিষ্যতে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বহনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন সদস্যদের মাঝে কৃতিত্বের সনদ বিতরণ করা হয় এবং প্রধান অতিথির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে অতিথিদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, রেড হোপ ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও সমাজসেবা, রক্তদান, তরুণ উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
পড়ুন: দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১৬ জনের মৃত্যু
আর/


