বিজ্ঞাপন

হালকা কাজ করেই ক্লান্ত, নীরবে হার্টের অবস্থা খারাপ হয়নি তো?

স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? সামান্য হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা বাজারের ব্যাগ তোলার মতো সাধারণ কাজেই যদি শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত অবসাদ অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধু দুর্বলতা বা ঘুমের অভাব নাও হতে পারে। অনেক সময় এমন উপসর্গ হৃদযন্ত্রের ভেতরের জটিল সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা শুরুতে খুবই হালকা মনে হলেও ধীরে ধীরে বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কার্ডিওলজিস্টদের মতে, এই ধরনের অস্বাভাবিক ক্লান্তি হৃদযন্ত্রের ভালভ সংক্রান্ত সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে যা অনেকেই সাধারণ স্ট্রেস বা কম ফিটনেস ভেবে উপেক্ষা করেন। দিন শেষে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা তখনই, যখন খুব সাধারণ কাজেই অস্বাভাবিক অবসাদ দেখা দেয়। যেমন—

  • অল্প হাঁটায় হাঁপিয়ে যাওয়া
  • সিঁড়ি উঠতে কষ্ট হওয়া
  • হালকা কাজ করলেও শরীর ভেঙে পড়া

এগুলো যদি নিয়মিত ঘটে এবং বিশ্রামের পরও না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

হার্টের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ভালভের সম্পর্ক: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্লান্তি অনেক সময় হার্ট ভালোভাবে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারার ইঙ্গিত দেয়। হৃদযন্ত্রের ভালভজনিত সমস্যা হলে কেন ক্লান্তি হয় এটি বুঝতে হলে প্রথমে হার্টের ভালভ কীভাবে কাজ করে তা জানা জরুরি। হৃদযন্ত্রে চারটি ভালভ থাকে, যা একসঙ্গে কাজ করে রক্তকে সঠিক দিক দিয়ে হৃদযন্ত্রের ভেতর ও শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত করতে সাহায্য করে। এগুলো একধরনের “ওয়ান-ওয়ে দরজা” হিসেবে কাজ করে, যাতে রক্ত শুধু এক দিকেই চলাচল করতে পারে। কিন্তু যখন কোনও কারণে এই ভালভ ঠিকভাবে খোলে বা বন্ধ হয় না যেমন এটি সরু হয়ে যাওয়া, শক্ত হয়ে যাওয়া বা লিক করা তখন হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয় শরীরে রক্ত পৌঁছে দেয়ার জন্য।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের অবস্থাকে সাধারণত অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস বা মাইট্রাল রিগারজিটেশন (বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও পেশিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ঠিকভাবে পৌঁছায় না। ফলে অল্প কাজ করলেও মানুষ অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করে এবং শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে

এই ধরনের ক্লান্তি অনেক সময় হার্ট ভালোভাবে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করতে না পারার ইঙ্গিত দেয়। ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ ক্লান্তি সাধারণত বিশ্রাম, ভালো ঘুম বা স্ট্রেস কমলে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু হার্টের ভালভজনিত সমস্যার কারণে হওয়া ক্লান্তি অনেক সময় বিশ্রামের পরও কমে না, বরং শারীরিক পরিশ্রমের পর আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এই ধরনের ক্লান্তিকে শুধু স্ট্রেস, বয়স বা কম স্ট্যামিনা ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়, কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদযন্ত্রের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

যেসব লক্ষণ থাকলে সতর্ক হোন: শুধু ক্লান্তি নয়, নিচের উপসর্গগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি—

  • অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট
  • বুকের চাপ বা ব্যথা অনুভব
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি
  • অনিয়মিত বা দ্রুত হার্টবিট
  • পা, গোড়ালি বা পেটে ফোলা

অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট হতে পারে হার্টের সতর্ক সংকেত।

হার্টের ভালভ সমস্যা অনেক সময় শুরুতে ধরা পড়ে না। কারণ প্রথমদিকে হার্ট অতিরিক্ত কাজ করে শরীরকে সামাল দেয়। ফলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে ভেতরে কোনো সমস্যা চলছে। অনেকেই এই ক্লান্তিকে বয়স, স্ট্রেস বা দুর্বলতা ভেবে উপেক্ষা করেন। ফলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়।

ঝুঁকিতে কারা 

  • বয়স্করা বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের ইতিহাস থাকলে
  • জন্মগত হার্ট সমস্যা থাকা ব্যক্তিরা
  • কিছু সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ

সব ক্লান্তি সাধারণ নয়। শরীরের প্রতিটি অস্বাভাবিক সংকেতই একটি বার্তা দিতে পারে। তাই দৈনন্দিন কাজেই যদি অস্বাভাবিক অবসাদ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো।

পড়ুন:সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ

দেখুন:পাটুরিয়া ঘাটে পারাপারের টিকেট না পেয়ে হতাশ ট্রাক চালকরা | 

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন