বিজ্ঞাপন

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়‌কে তীব্র যানজটে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে

ঢাকা- টাঙ্গাইল- যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে বসে থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে। এদিকে মহাসড়ক যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে৷ এছাড়া ঝুঁকি নিয়েই খোলা ট্রাক ও পিকআপে করেই ঘরমুখো মানুষকে যেতে দেখা গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পুংলী ও এলেঙ্গাসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়৷

পুলিশ জানায়, পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর গাজীপুরে চন্দ্রা ও ঢাকার সাভার এলাকায় তীব্র যানজট ছিলো৷ এর প্রভাবে পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ি তৈরি হয়। ফলে এ মহাসড়ক জুড়েই যানবাহনকর ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়েছে।

অধিকাংশ যাত্রী সাধারণের অভিযোগ এই শত কিলোমিটার মহাসড়ক দিয়ে যমুনা সেতু পাড়ি দিতেই ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ভোগান্তি অবর্ণনীয়। এজন্য বছর বছর এই চরম ভোগান্তির অবসান চান তারা।

মহাসড়কের পুংলি এলাকায় বাসের চালক মিজানুর রহমান বলেন, রাত ১০ টায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে গাড়ি ছেড়েছি। সকাল ১১ পর্যন্ত টাঙ্গাইলেই বসে রয়েছি। একই স্থানে ৪ ঘণ্টা ধরে বসে রয়েছি৷ চন্দ্রা পার হলে কুড়িগ্রাম যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। ১৩ ঘণ্টা পার হলেও যমুনা সেতুও পার হতে পারেনি।

রাজশাহীর বাস চালক বেল্লাহ হোসেন বলেন, অন্য সময়ে রাজশাহী যেতে সময় লাগে, ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। কিন্ত যানজটেই আটকা রয়েছি ৬ ঘণ্টার উপরে। আমাদের এ ভোগান্তির কোন শেষ নেই। রাত থেকে আমাদের ঘুম নেই।

আরেক বাস চালক হাবিবুর রহমান বলেন, রাত ১০ টায় গাড়ি ছেড়ে এখন পর্যন্ত যমুনা সেতু পার হতে পারেনি। সড়কে জায়গায় জায়গায় গাড়ি পাকিং করার কারণে বেশি যানজট হচ্ছে। প্রশাসনকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাসের যাত্রী মোহনা বলেন, যানজটে আটকা পড়ে বাচ্চা নিয়ে চরম ভোগান্তীতে রয়েছি৷ প্রচণ্ড ঘরম বাসের ভিতরে। এছাড়া আমরা বাইরেও যেতে পারছি না। সকাল সাড়ে ৭ টা থেকেই গাড়িতে বসে রয়েছি৷

বাসের আরেক যাত্রী পারভেজ বলেন, ১৪ ঘণ্টা ধরে যানজটে রয়েছি। এখনো যমুনা সেতু পার হতে পারেনি। ঈদ যাত্রায় এমন যানজটে সরকারের গাফিলতি রয়েছে।

নওগার যাত্রী বলেন, এমনে অন্য সময় নওগা যেতে সময় লাগে ৬ ঘণ্টা। ইতিমধ্যেই ১৫ ঘণ্টা পার হলেও যমুনা সেতু পার হতে পারি। সরকারের আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ব্যাপারে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সেতুর উপর একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে জটলা রয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিক হবে ।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, চার লেন থেকে দুই লেনে যমুনা সেতুতে গাড়ি যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনায় ও ট্রাক বিকলের ফলে ঘরমুখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিচার ও ঝগড়া করে, বৃষ্টিতে গাড়ি বন্ধ ছিলো৷ যানজট নিরসনে আমরা কাজ করেছে৷

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যমুনা সেতু দিয়ে ৫৬ হাজার যানবাহন পারাপার, টোল আদায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন