কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাওড় অঞ্চলে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সকাল ১০টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ দেলোয়ার হোসেন সুজন, সদস্য সচিব আলহাজ্ব আল মামুন, হাজী আসমত সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সানি তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জিন্নাহসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হাওড়াঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব এবং কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতকে শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
পরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৭২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হয়।
প্রতিজন কৃষককে তিন মাস মেয়াদি সহায়তা হিসেবে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। সহায়তা হাতে পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুর্যোগকালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উপকারভোগী কয়েকজন কৃষক জানান, অতিবৃষ্টির কারণে তাদের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এ সহায়তা তাদের পরিবার পরিচালনা ও নতুন করে কৃষিকাজ শুরু করতে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং কৃষি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগকবলিত কৃষকদের জন্য সরকারের এই সহায়তা কার্যক্রম তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।
পড়ুন- লেবাননে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, ৬ শিশুসহ একই পরিবারের ৯ সদস্য নিহত


