রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রখ্যাত প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুর। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এই গায়িকা তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা বিখ্যাত মারাঠি জীবনীগ্রন্থ ‘সুমন সুগন্ধ’-এর লেখিকা মঙ্গলা খাড়িলকর সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানান, রোববার রাত ৮টা নাগাদ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ও নীরবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সুরসম্রাজ্ঞী। জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি নিজের গাওয়া গান শুনেই সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন পদ্মভূষণজয়ী এই শিল্পী। ঢাকায় জন্ম হলেও সুমন কল্যাণপুর পরবর্তীতে মুম্বাইয়ে স্থায়ী হন এবং নিজের অসামান্য কণ্ঠের জাদুতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে এক অনন্য স্থান তৈরি করেন। রাগপ্রধান ধ্রুপদী গান থেকে শুরু করে রোমান্টিক ডুয়েট বা ভক্তিগীতি—সবখানেই ছিল তার অবাধ যাতায়াত।
হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার গাওয়া ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ার কে চৰ্চে’, ‘না না করতে পেয়ার তুমহি সে’ কিংবা ‘তুমনে পুকারা অউর হম চলে আয়ে’-র মতো কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন। শুধু হিন্দিই নয়, মারাঠি, বাংলা ও ওড়িয়া সহ একাধিক আঞ্চলিক ভাষাতেও তিনি অজস্র জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন।
তার গাওয়া মারাঠি গান ‘কেতকিচ্যা বনী তিথে’, ‘সাং কধী কল্নার তুলা’ কিংবা কালজয়ী ঘুমপাড়ানি গান ‘নিম্বোণিয়াচ্যা ঝাড়ামাঘে’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের মনে আবেগের জায়গা জুড়ে রয়েছে।
সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গুণীজনেরা।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি এক ঐশ্বরিক কণ্ঠের মহাপ্রস্থান, যা ভারতের সুরের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছিল। মারাঠি, হিন্দি, বাংলা ও ওড়িয়া সংগীতে তার অবদান অতুলনীয়। তার শারীরিক উপস্থিতি আমরা মিস করব, কিন্তু তার অমর সুর চিরকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।’
এছাড়া এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পওয়ার এক শোকবার্তায় জানান, ‘সুমনজির প্রয়াণে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লঘু সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান হলো। তার আবেগঘন ও সুমধুর কণ্ঠ যুগের পর যুগ ধরে মানুষকে মুগ্ধ করেছে।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ী গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সুমনজির অবদান আগামী প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’
এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও বিনয়ী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন সুমন কল্যাণপুর। পার্থিব জগৎ থেকে তার বিদায় ঘটলেও, তার রেখে যাওয়া অমূল্য সুরের উত্তরাধিকার কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে চিরকাল অনুরণিত হতে থাকবে।
পড়ুন : অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র সম্পাদক মার্সিয়া লুকাস মারা গেছেন


