নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পাওনা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মিলন মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দলপা (কান্দাপাড়া) গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিলন মিয়া দলপা কেন্দুয়ার কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও আমজুদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মহল্লাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে পাওনা টাকার লেনদেন নিয়ে মিলন মিয়ার সাথে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলছিল। আজ বুধবার দুপুরে পাওনা টাকা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আবারও নতুন করে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি আঘাতে মিলন মিয়া গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় মিলন মিয়াকে উদ্ধার করেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মিলন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। মিলনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
হত্যাকাণ্ডের খবর গ্রামে পৌঁছামাত্রই উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তি এবং তার মাকে ঘটনাস্থল থেকেই ধরে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের রশি দিয়ে বেঁধে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সন্দেহভাজন ওই মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
ওসি আরও জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে মা ও ছেলেসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দলপা গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


