বিজ্ঞাপন

বসতবাড়ি মাদকের আখড়া! পলাতক কারবারির প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় কর্মস্থলজনিত কারণে সপরিবারে অন্যত্র থাকা এক ব্যক্তির খালি বাড়িকে মাদকের নিরাপদ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিল স্থানীয় মাদক কারবারি। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে মাদকের চালান ধরা পড়া এবং মামলা হওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বাড়ির মালিক ও তার বোনকে কুপিয়ে এবং জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন খারনৈ ইউনিয়নে উত্তর রাণীগাঁও গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভুক্তভোগী মাওলানা শফিকুল ইসলাম (৪৪)।

কলমাকান্দা থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী জীবিকার তাগিদে সপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে তাদের বসতঘরটি খালি পড়ে থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একই গ্রামের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. গেদু মিয়ার ছেলে মো. হৃদয় মিয়া (২০) এবং তার সহযোগীরা শফিকুল ইসলামের খালি বাড়িতে মদের বোতল মজুত করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সম্প্রতি ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে সেসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা হৃদয় মিয়া দ্রুত পালিয়ে যায়।

মাদকের এই ঘটনায় মামলা হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আসামি পক্ষ। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসামি হৃদয় মিয়া শফিকুল ইসলামের বাড়ির উঠানে এসে তার বোন মোছা. হাফিজা খাতুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তাকে ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে খুন করে মৃতদেহ গুম করে ফেলার মারাত্মক হুমকি দেয় সে।

এর আগে, গত ৩১ মে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মো. গেদু মিয়া (৬০) তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে মাওলানা শফিকুল ইসলামের নম্বরে কল করে। ফোনে সে শফিকুল ইসলামকে হুমকি দিয়ে বলে, তিনি যদি গ্রামের বাড়িতে যান তবে তাকে জবাই করে হত্যা করা হবে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে শফিকুল ইসলাম কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‍‍“মাওলানা শফিকুল ইসলামের দেওয়া অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছি।”

মাদক মামলার পলাতক আসামি হৃদয় মিয়ার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা তাকে ধরে ফেলব।”

ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, “আমরা বাদী ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি তারা যেন নিরাপদে থাকেন। তাদের কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক আমাদের জানাতে বলা হয়েছে। ওই পরিবারের ওপর পুলিশের নজরদারি (সার্ভিল্যান্স) রয়েছে, আমরা তাদের পাশেই আছি।”

মাদক কারবারিদের এমন দুঃসাহসিকতা এবং হত্যার হুমকির বিষয়টি স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ মহলেও পৌঁছেছে। জানা গেছে, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারও খোঁজখবর নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রাণ গেল জামাল মিয়ার, নারী আটক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন