বিজ্ঞাপন

খাদ্য প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বাড়াবে ভোক্তা সচেতনতা, কমাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অতিরিক্ত  চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্যাকেটের সম্মুখভাগে সহজ, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) এসব রোগের ঝুঁকি কমানোর একটি কার্যকর উপায়।

বিজ্ঞাপন

আজ ৭ জুন বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং করণীয়: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত” শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য “ফ্রম বারডেন টু সলিউশন: সেফ ফুড এভরিহোয়্যার”।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর দেশে প্রায় ৫ লক্ষ ৭০ হাজার ২৬৩ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ।  অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাট অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ওয়েবিনারে আরও জানানো হয়, বর্তমানে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য অধিকাংশ ভোক্তা সহজে বুঝতে পারেন না।  ফলে খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই খাদ্য নির্বাচন করেন তারা। বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালু হলে পণ্যের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তার মাধ্যমে ভোক্তারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে। এর ফলে তারা আরও সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএলকে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “বিশ্বে ৪৪টি দেশ ইতোমধ্যে এফওপিএল চালু করেছে এবং এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশও এবিষয়ে কাজ করছে এবং আমরা আশা করি দ্রতই এটি চালু করতে পারবো।”

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বাংলাদেশে এফওপিএল বাস্তবায়িত হলে এটি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ (অসংক্রামক রোগ হ্রাস) অর্জনের পথকে আরও সুগম করবে।”

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের চিফ নিউট্রিশনিস্ট শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, “প্যাকেটজাত খাবারে থাকা স্বাস্থ্যহানিকর উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।”

ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’র প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা। নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং যুব সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওয়েবিনারে অংশ নেন।

পড়ুন- রামিসা হত্যার রায় বিচার প্রক্রিয়ার একটি মাইলফলক: অ্যাটর্নি জেনারেল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন