কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
জানা গেছে, গত ৫ জুন ভুরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০৫টি দোকানঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বহু ব্যবসায়ী তাদের জীবনভর সঞ্চিত পুঁজি হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা লাঘবে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ সোহেল বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতি অপূরণীয়। এই সহায়তা হয়তো তাদের ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য, তবে দুর্দিনে তাদের পাশে থাকার একটি প্রয়াস। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অমৃত দেবনাথ, আলাউদ্দিন মণ্ডল এবং শহিদুল ইসলাম আকন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
সভায় বক্তারা ভুরুঙ্গামারীতে দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান। তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন লাগার ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজন।
চেক পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তারা ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় আরও বড় পরিসরে পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানান। তাদের আশা, ব্যবসা পুনরায় চালু করতে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

