বিজ্ঞাপন

মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২, আহত ১

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নে পুকুরে মাছ ধরার প্রস্তুতিকালে সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) সকাল প্রায় ৯টার দিকে ইউনিয়নের বাবুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন হাজীপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৫) এবং পার্শ্ববর্তী কুটিপাড়া নদীরপাড় গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মুজিবুর রহমান (৫০)। আহত মিঠু ইসলাম (৩০)-কে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুর বাজার এলাকার একটি পুকুরে মাছ ধরার জন্য পানি সেচে অপসারণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় একটি সেচ পাম্প (মোটর) স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কয়েকজন। ঘটনাস্থলেই জালাল উদ্দিন ও মুজিবুর রহমান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আহত হন মিঠু ইসলাম।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পুকুরে সেচ পাম্প বসানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারে অসতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।

পড়ুন- ২৪ ঘন্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন