নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১০০ জন সুফলভোগীর মাঝে ছাগল ও এর গৃহনির্মাণ উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
‘সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রতিটি সুফলভোগী পরিবারকে দুই পাতা টিন, চারটি সিমেন্টের খুঁটি, পাঁচ পিস ফ্লোরম্যাট বিতরণ করা হয় এবং এর আগে একই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেককে দুইটি করে ছাগল প্রদান করা হয়েছিল।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকারের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. লুৎফুল কবীর, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, মাঠকর্মী অচিন্ত হাজং, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক পাঠান। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুবিধাভোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গৃহিত বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে। প্রাণিসম্পদ ভিত্তিক আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আবাসন ও গৃহস্থালি সহায়তা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উপকরণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত সুফলভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা জানান, বিনামূল্যে ছাগল পালন এবং গৃহনির্মাণ উপকরণ পাওয়ায় তাদের পরিবারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এসব সহায়তা তাদের জীবিকা উন্নয়ন ও বসবাসের পরিবেশকে আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার জানান, সরকারের এ বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার নিরলস চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কার্যক্রমগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, বিতরণকৃত গরু, ভেড়া, হাঁস-মুরগী, ছাগল ও অন্যান্য উপকরণ সুফলভোগীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের টেকসই জীবিকায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এমন বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এ ধরনের সরকারি উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নয়নে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

