ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু খেলার আসর নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোর একটি। সেই মঞ্চেই এবার জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। এবারের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ কানাডার টরন্টোতে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীদের জন্যও গর্বের একটি মুহূর্ত।
কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উৎসব আজ। এদিন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক কানাডা। ম্যাচ শুরুর আগে আয়োজিত হবে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে সংগীত, নৃত্য ও পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে কানাডার বহু সাংস্কৃতিক পরিচয়। এই আয়োজনে অংশ নেবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনপ্রিয় শিল্পীরা। সঞ্জয় ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবল, নোরা ফাতেহি, ভেজেড্রিম ও উইলিয়াম প্রিন্স।
এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার প্রকাশ পেয়েছে অফিসিয়াল ফিফা সাউন্ডট্র্যাক ‘সির সির’। গানটি যৌথভাবে তৈরি করেছেন সঞ্জয় ও ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিম। প্রকাশের পরপরই গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ফিফার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই গানটির ভিউ ৩১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। প্রাণবন্ত ছন্দ, ফুটবলের উন্মাদনা এবং বৈশ্বিক উদ্যাপনের আবহ গানটিকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। গানটির আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিলেন নোরা ফাতেহি। মিউজিক ভিডিওতে তাঁর নাচ ও উপস্থিতি দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। ফলে ‘সির সির’ শুধু একটি ফুটবল সংগীত নয়, বরং বিশ্বকাপকে ঘিরে বৈশ্বিক সংস্কৃতির এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
সঞ্জয়ের জন্য এই অর্জন অনেক বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন। বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আসরে পারফর্ম করা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। ছোটবেলায় নিজের ঘরে বসে সংগীত তৈরি করার সময় এমন একটি মঞ্চে ওঠার স্বপ্ন দেখতাম। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে আরও বলেন, প্রথমেই আমার ছেলেবেলার কথা মনে পড়েছিল, নিজের ঘরে বসে গান তৈরি করা আর বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ওঠার স্বপ্ন দেখা। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের কথাও মনে হয়েছে। তারা আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই অর্জন তাদেরও।
সঞ্জয়ের জন্ম চট্টগ্রামে। তবে তিনি বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই শুরু করেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম। ১১ বছর বয়সে আমেরিকা চলে যান। খেলাধুলা বা অন্য কোনো বিষয়ে খুব বেশি জড়িয়ে পড়েননি। সংগীতই ছিল তাঁর একমাত্র আশ্রয়। ছোটবেলা থেকেই মাথায় নানা সুর আসত, আর সেগুলো গান আকারে সাজানোর চেষ্টা করতেন। ১৩তম জন্মদিনে ল্যাপটপ উপহার পেয়ে তিনি ‘রিজন’ নামের সংগীত তৈরির সফটওয়্যার আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি সংগীত তৈরি করে চলেছেন। কখনও ভাবেননি যে সংগীতই একদিন তাঁর জীবনের পথ হয়ে উঠবে। আজ সেই পথ তাঁকে নিয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক মঞ্চে।
বাংলাদেশি শিকড় থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন সঞ্জয়। বিভিন্ন সংস্কৃতির সংগীতকে একত্র করে নতুন ধারা তৈরির জন্য তিনি পরিচিত। সঞ্জয় প্রমাণ করল, প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করা সম্ভব।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে যখন কোটি কোটি দর্শকের সামনে ‘সির সির’-এর তালে মুখর হবে টরন্টো, তখন সেই আলোয় উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই সংগীতশিল্পী। সঞ্জয়ের এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
পড়ুন:‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার’
দেখুন:পুরো মেক্সিকো জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা
ইমি/


