বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কাটেনি অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বললেও, ইরান জানিয়েছে ওই দিন কোনো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে ভিন্নধর্মী বক্তব্য সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, রোববারই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা এবং চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে।

তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা স্মারক রোববার স্বাক্ষরিত হচ্ছে না। যদিও ভবিষ্যতে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেননি।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, বাঘেই বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, রোববার চুক্তি না হলেও ভবিষ্যতে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

চুক্তি প্রক্রিয়ায় ইরানের অবস্থান সতর্ক বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বাঘেই জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যু আলোচনায় আসবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান আর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী নয়। ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে দ্বিধার কথা তুলে ধরে বাঘেই বলেন, ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে জেনেভা বা অন্য কোথাও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও নেই বলে তিনি জানান।

তবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বাঘেইর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি শিগগিরই চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ট্রাম্পের অবস্থান

চুক্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, গত এপ্রিলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান ভূমিকা রেখেছিল। এরপর থেকেই শান্তি আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইসলামাবাদ। তাঁর মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প পুনরায় উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করে ধ্বংস করবে। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে বি-২ বোমারু বিমান ও পাইলটদের মাধ্যমে গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে সংরক্ষিত পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করা হবে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ, সঙ্গে সতর্কবার্তা

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ট্রাম্প ‘পারমাণবিক অস্ত্রের পথে একটি প্রাচীর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং অন্য কোনো পথেও তা অর্জন করতে পারবে না।

পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোর নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক অতীতের তুলনায় ভিন্ন এবং উন্নত। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এই চুক্তির অংশ হিসেবে কোনো আর্থিক লেনদেন হবে না।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অন্য বিকল্পও রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

পড়ুন: প্রথমবারের মতো বাজেটের পর পণ্যের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন