ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের চার দেশ—জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
চার দেশের নেতাদের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কোনো শর্ত ছাড়াই দ্রুত খুলে দিতে হবে। পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত শান্তি চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দুই দেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
গুতেরেসের মতে, এই সমঝোতা চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macronও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল, যেখানে আরও কয়েকটি দেশের অবদান রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ম্যাখোঁ বলেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি জরুরি ভিত্তিতে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই খুলে দিতে হবে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে গঠিত আন্তর্জাতিক মিশন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
লেবানন প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটির সরকারের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন অব্যাহত থাকবে, যাতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সুসংহত হয় এবং দেশের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
তার ভাষায়, রাষ্ট্রের কার্যকর কর্তৃত্বই লেবাননের স্থিতিশীলতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জনগণের চাহিদা পূরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
পড়ুন: খুলছে হরমুজ প্রণালি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার
আর/


