চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর চট্টগ্রামের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা আজ বুধবার (১৭ জুন) এই রায় প্রদান করেন।
গত ৪ জুন পুলিশের চার্জশিট দেওয়ার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মাত্র ৩ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) উভয় পক্ষের তর্ক-বিতর্ক শেষ হওয়ার পর আজ এই চূড়ান্ত রায় এলো।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়ার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি গুদামে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ডেকোরেশন কর্মী মনির হোসেনকে একটি ভবনে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
তবে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা আসামিকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিতে চায়। পুলিশ বাধা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা ইটপাটকেল ছোঁড়ে এবং পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে, যার ফলে স্থানীয়দের সাথে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পুলিশ কৌশলে আসামিকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এই ব্যাপক সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুততার সাথে তদন্ত শুরু করে। ডিএনএ টেস্ট ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করে মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে (৪ জুন) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।
পড়ুন: লিওনেল মেসি: ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি
আর/


