লিওনেল মেসির দুর্দান্ত শুরুর পর ফুটবলপ্রেমিরা তাকিয়ে আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে। তার বিশ্বকাপ যাত্রা কেমন হবে? সেটা জানা যাবে আজ রাতেই। বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে পর্তুগাল। বুধবার হিউস্টনে গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে রাত ১১টায় কঙ্গোর মুখোমুখি হবে রবার্তো মার্তিনেজের দল। ম্যাচটি দেখাবে টি স্পোর্টস, বিটিভি ও সময় টিভি।
একই গ্রুপে রয়েছে কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানও। ফলে নকআউট পর্বের পথ সহজ করতে শুরুতেই জয় চাইবে পর্তুগাল।
তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ইউরো ২০১৬ এবং উয়েফা নেশনস লিগের ২০১৯ ও ২০২৫ সংস্করণের শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ এখনও অধরাই রয়ে গেছে তার। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর শেষ সুযোগ হতে পারে এবারের আসর। ফলে পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচেই বাড়তি নজর থাকবে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার ওপর।
অন্যদিকে, ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে কঙ্গো। সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে ‘জায়ার’ নাম নিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছিল আফ্রিকার দেশটি। সেই আসরের পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করাই তাদের জন্য বড় অর্জন। তবে সেবাস্তিয়েন দেসাব্রের দল শুধু অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না। দলে থাকা কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান ফুটবলারের ওপর ভর করে তারা চমক দেখানোর স্বপ্নও দেখছে। আর সেই পরীক্ষার প্রথম ধাপেই তাদের সামনে শক্তিশালী পর্তুগাল।
দলের মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের হাতে। বিশেষ করে ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের ওপর দায়িত্ব থাকবে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে দলের খেলার ছন্দ বজায় রাখা। আক্রমণভাগের দুই উইংয়ে দেখা যেতে পারে বার্নার্দো সিলভা ও পেদ্রো নেতোকে।
আর আক্রমণভাগের মাঝখানে গোল করার বড় দায়িত্ব থাকবে অধিনায়ক রোনালদোর ওপর। তার অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতাই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি।
পর্তুগালের সম্ভাব্য একাদশ: দিয়োগো কস্তা, জোয়াও ক্যানসেলো, রুবেন দিয়াস, গঞ্জালো ইনাসিও, নুনো মেন্দেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও পেদ্রো নেতো।
বয়স ৪১ হলেও এটা যেন রোনালদোর কাছে কেবলই সংখ্যা। গোল করে কত রেকর্ড যে ভেঙেচূড়ে দিচ্ছেন, সেটার হিসাব হয়তো তাঁর কাছেও নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ড এখনো তাঁরই দখলে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে খেলে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। গত রাতে যখন মার্তিনেস সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন, তখন বেশির ভাগ প্রশ্নই এসেছে রোনালদোকেন্দ্রিক। মার্তিনেস বলেন, ‘এটা তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। কিন্তু আমি বলতে পারি যে দলের ভেতরে তার মানসিকতা, উদ্দীপনা এমন যে মনে হয় এটা তার প্রথম বিশ্বকাপ।’
১৪৩ গোল করা রোনালদো ক্যারিয়ারে পাঁচবার জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। তবে একের পর এক রেকর্ড গড়া পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের বড় টুর্নামেন্টগুলোতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা সন্তোষজনক নয়। সবশেষ ৯ ম্যাচে গোল পাননি তিনি। তবু মার্তিনেসের আশা রোনালদো বড় মঞ্চে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। পর্তুগালের কোচ বলেন, ‘ফুটবলের জন্য সে আদর্শ উদাহরণ। রাস্তায় খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করতে শুরু করা সব শিশুদের জন্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করা দারুণ বিষয়। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত করছে।’
ক্লাব ফুটবলে একের পর এক শিরোপা জেতা রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলে জিতেছেন তিন শিরোপা। দুইবার জিতেছেন নেশনস লিগ ও একবার ইউরো জিতেছেন। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। পর্তুগাল-উজবেকিস্তান ম্যাচ হবে ২৩ জুন। ২৮ জুন নিজেদের শেষ ম্যাচে পর্তুগাল খেলতে নামবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাঙাতে পারেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।


