স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্পেশাল বিসিএস এর মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা একটা অথৈ সাগরের ভেতরে সাঁতার কাটছি।তবুও আল্লাহর রহমতে আমরা বিশেষ বিসিএস এর মাধ্যমে ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবো।আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসক নতুন দেওয়া হয়েছে।এরমধ্যে ৬ জন যোগদান করেনি।দুই জন কনসালটেন্ট দেয়া হয়েছে।আরও যা লাগবে আমরা আমরা দেব।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে যে ডেপুটেশন ছিলো এগুলো আমরা বাতিল করতেছি। এখানেও একজন নারী ডাক্তার দুই মাস ধরে আসেনা।খবর পেয়েছি সে অন্য জায়গায় প্রাক্টিস করে। তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে সে এখানে যোগদান না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু কিছু কাজ আমরা করছি। ১৭ বছরের জঞ্জাল তো একবারে শেষ করতে পারবো না।
মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, আমরা আসলে একটা টিম।ডাক্তার, নার্স, আয়া সহ অন্যান্য যারা রয়েছে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।আমাদের সমন্বিতভাবে দেশটাকে গড়তে হবে। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি।আমরা স্বাস্থ্যসেবা কে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।বিনা চিকিৎসায় কাউকে মরতে দিতে চাইনা।এই জিনিসগুলি বাস্তবায়িত করা লক্ষ্যে মানুষ যাতে সত্যি কারের সেবা পায় সেজন্য আমরা সবাইকে মোটিভেট করছি।আর ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য আমরা ডিসিকে বলেছি।
তিনি বলেন, আমাদের আসার উদ্দেশ্য হাসপাতালের নতুন ভবনটি দেখা, এটা খুব শিগগিরই উদ্বোধন করবো। এটাতে কি কি ফার্নিচার লাগবে, কি কি যন্ত্রপাতি লাগবে এগুলো দেখলাম। হাসপাতালের সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করতে হবে যাতে পানি স্মুথলি চলে যেতে পারে, কোথাও যাতে পানি না জমে। হাসপাতালে একটা ফ্রিজার দিতে হবে। এই বাকি কাজগুলো আমাদের করতে হবে। এগুলো শেষ করে কুষ্টিয়ার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একসাথে হাসপাতালটির ২৫০ শয্যা উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতালে সার্ভিসের ব্যবস্থা দেখলাম। কর্মচারীরা বেতন ঠিক মতন পাই কিনা, তাদের উপস্থিতি ঠিক আছে কিনা, ডাক্তাররা নিয়মিত আসেন কিনা, নতুন পদায়নকৃত ডাক্তাররা ঠিক মতো কাজ করছে কিনা সহ বিভিন্ন সাইড আমরা দেখলাম।আমি এই হাসপাতালে বাড় ধরনের কোন নোটেবল ত্রুটি পাইনি।
তিনি বলেন, প্রত্যেক হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু সহ ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি।আমরা এ বিষয়ে মিটিং করেছি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শেষ হয়েছে।
এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : দিনাজপুরে যাত্রীবেশে প্রতিবন্ধী চালকের ইজিবাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ


