চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু জায়হানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ডিবি পুলিশ ও পটিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলাধুলার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
নিখোঁজের পরপরই পরিবারের ঘর থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার হয়। চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার শর্তে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করে। তারা আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন নিখোঁজ শিশুর খোঁজে পরিবারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে একটি ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শিশু জায়হানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পড়ুন:কালীগঞ্জ থানায় ওসির বিতর্কিত মতবিনিময়: আমন্ত্রণ পাননি টেলিভিশন ফোরামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা
দেখুন:সুন্দরবনের শেলা নদীতে কুমিরের আ/ক্র/ম/ণে নারীর মৃ/ত্যু
ইমি/


