চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রেম করে পালিয়ে বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মোহাম্মদ মারুফ (১৭) পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় খাদিজা সুলতানা কাশপি (১৪) নামে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কাশপি হাইলধর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিলের মেয়ে। তার স্বামী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেন বাড়ির আব্দুস সালামের ছেলে মোহাম্মদ মারুফ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন মারুফ ও কাশপি। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তারা মারুফের বাড়িতে ওঠেন। পরে পারিবারিক কারণে কাশপিকে নিয়ে আসা হলেও কোরবানির ঈদের আগে থেকে মালঘর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তারা। আগামী মাসে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে কাশপি একবার ফোন করেছিলেন। পরে দুপুর ২টার দিকে আবার ফোন করে কয়েক সেকেন্ড কথা বলার পর তার স্বামী মোবাইলটি নিয়ে লাইন কেটে দেন। এটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে কাশপির শেষ কথা।
নিহতের মা শাহিনুর আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “সন্ধ্যার পর মারুফ ফোন করে জানায় আমার মেয়ে অসুস্থ। খবর পেয়ে তাদের বাসায় গিয়ে দেখি মেয়েটি শুয়ে আছে। তখন মারুফ বলে, সে ফাঁসি দিয়েছে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মারুফ আমার মোবাইল ফোনে কল করার কথা বলে সেটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।”
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কাশপির মৃত্যু হয়েছে। তার গলার বিভিন্ন স্থানে দাগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


