বিজ্ঞাপন

চট্রগ্রামের হাটহাজারীতে বোনের বিয়ের দিনে সড়কে ঝরল ভাইয়ের প্রাণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. সামি (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার ডায়মন্ড টার্চ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হাটহাজারী-রাউজান আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সামি হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শায়েস্তা খাঁ পাড়া এলাকার প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ছিল সামির বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে কমিউনিটি সেন্টারে উপস্থিত হয় সে। দুপুর আড়াইটার দিকে কোনো কাজে কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পারাপারের সময় চট্টগ্রাম নগরমুখী একটি দ্রুতগতির ড্রাম ট্রাক তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কটিতে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কমিউনিটি সেন্টারের সামনে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ট্রাকটি আটক করে এবং চালককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সামির পরিবার। বিয়ের ঘরে যেখানে উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক তৈরী কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ৭ শ্রমিক আহত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন