বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গ্রেপ্তার

দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (১৯ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং দ্য নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন গত ১৫ জুন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশকসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বগুড়া সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেনদৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিনিধি মো. শামস এবং জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসান।

মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে তার এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “সাংবাদিক ছিলেন দাবি করে এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম” শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়। পরে বগুড়া সদর থানা মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় রেকর্ড করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বগুড়া ডিবি পুলিশের এসআই রহমাতুল্লাহ মানিককে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার বসুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং জলিল মিয়ার ছেলে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন