পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর আবারও আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে তার বহুল আলোচিত সম্পর্কের বিষয়টি। তবে এ প্রসঙ্গে বর্তমানে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
শুক্রবার (১৯ জুন) গোলাম সাকলায়েনকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে পরীমণি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে বিষয়টি শুনেই তিনি জানান, এটি কোনো আলোচনা করার বিষয় নয় এবং এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে চান না।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২১ সালে পরীমণি ও সাকলায়েনকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাগুলো নতুন করে সামনে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুন মাসে। সে সময় ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমণি। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন।
তদন্ত চলাকালে পরীমণি ও সাকলায়েনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পরীমণি দীর্ঘ সময় সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করেছিলেন। এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ সাকলায়েনকে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে সরিয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।
তবে সে সময় সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা সমালোচনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন পরীমণি। ২০২৪ সালের জুনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল হতে পারে। তার মতে, ঘটনাটি শুধুমাত্র প্রেম বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে ঘটেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।
সাক্ষাৎকারে পরীমণি আরও বলেন, সফল মানুষদের ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তিনি সাকলায়েনকে একজন দক্ষ ও সফল কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে খারাপ লাগার কথাও জানিয়েছিলেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তার কাছে অস্বাভাবিক ও অন্যায্য মনে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে।”
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান নিয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পরীমণি। ফলে সাকলায়েনের বাধ্যতামূলক অবসর এবং তাদের অতীত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্যেও অভিনেত্রী নীরবতাই বেছে নিয়েছেন।
এদিকে সাকলায়েনকে ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন:বগুড়ার বিতর্কিত দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেখুন:ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ঘিরে ভক্তদের উল্লাস
ইমি/


