দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৭৪ জন। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদের মধ্যে ৫৭৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ৯৩ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৬৯ জনে এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২ জনে পৌঁছেছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুইজন সিলেট বিভাগের এবং বাকি দুইজন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। এ সময় সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭২ জন। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৯৩ জন।
এদিকে সিলেটে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের একজন সাত মাস বয়সী সায়হান, যার বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলায়। অপরজন পাঁচ মাস বয়সী আহিয়ান, যার বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকি ৭৫ জন শিশু। মৃতদের মধ্যে চারজনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হলেও অন্যরা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৬১ জন। মৃতদের মধ্যে সর্বাধিক ৩১ জন সুনামগঞ্জ জেলার, ২৯ জন সিলেট জেলার, ১০ জন মৌলভীবাজার এবং ৬ জন হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
অন্যদিকে চট্টগ্রামেও হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ১৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪ জনে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ১১ শিশু এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আরও ৫৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ জন নগর এলাকার এবং ৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ১৪৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৮৫৭ জন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৮৬ জন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম প্রতিরোধে মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যেসব শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।
পড়ুন:অ্যান্ড্রয়েড ১৭ নিয়ে এল নতুন সুবিধা
দেখুন:ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ঘিরে ভক্তদের উল্লাস
ইমি/


