কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঘুষের টাকা গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়া। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সকালে ভৈরব উপজেলা পরিষদ চত্বরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় সংক্রান্ত একটি ফাইলের বিপরীতে ঘুষ হিসেবে ৭ হাজার টাকা গ্রহণের সময় তাকে আটক করেন ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলে হৃদয় মিয়াকে ইউএনওর কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ২১টি ফাইল নিষ্পত্তির জন্য হৃদয় মিয়া মোট ২১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। ওই দাবির অংশ হিসেবে রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাস ৭ হাজার টাকা প্রদান করলে তা গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়া। তিনি দাবি করেন, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাস পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অফিসে প্রবেশের সময় হ্যান্ডশেক করার ছলে তার হাতে টাকা গুঁজে দেন। পরে অফিসে গিয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এবং এটি একটি ষড়যন্ত্র।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাস বলেন, ২১টি ফাইলের কাজ সম্পন্ন করার জন্য হৃদয় মিয়া তার কাছে ২১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই দাবির আংশিক হিসেবে তিনি ৭ হাজার টাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন ও স্বাক্ষরের বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এবার অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটকের ঘটনায় এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সোহেল মিয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন- মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্তের আহ্বান বাংলাদেশের


