চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ উচু ভবন ‘সিটিক টাওয়ারে’ একটি বিমান আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ভবনে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর লোকজনকে দ্রুত ভবনটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন বা কোথা থেকে আসছিল এবং ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাও এখনো জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি ৫২৮ মিটারউঁচু ভবনটির উপরের দিকের একটিচ তলাতে আঘাত করছে। এপর ধ্বংসাবশেষের বড় বড় টুকরো নিচের রাস্তা ও সবুজ চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ফুটেজে ভবনটি থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমাকে জরুরি ভিত্তিতে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেওয়ার সময়ও পাইনি। দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলের চারপাশের রাস্তাগুলো ঘিরে রেখেছে। এলাকাটি থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উঁচু ভবনটির চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও অবস্থান করতে দেখা গেছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটির নিবন্ধন নম্বর ছিল বি-১২পিপি। ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি দুই আসনের বিমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ ও আকাশপথে পর্যটনসেবা প্রদানকারী একটি কোম্পানি বিমানটি পরিচালনা করছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে যেকোনো ধরনের হালকা বিমান ওড়ানোর জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অনুমতি নিতে হয়। গত মাসে বেইজিং সব ধরনের সাধারণ বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে নতুন নিয়ম জারি করেছে। ফলে এখন বেইজিংয়ে যেকোনো উড্ডয়নের আগে সরকার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের বাধ্যতামূলক অনুমতি নিতে হয়।
সিটিক টাওয়ার চীনের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের’ সদর দপ্তর। ২০১৮ সালে ভবনটি নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ স্থাপনা।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


