দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে আঞ্চলিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দিনাজপুরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য এক বিশেষ জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় আয়োজিত এ জব ফেয়ারের মাধ্যমে ১২৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যের প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে ড্রাইভার ও ড্রাইভার’স হেলপার পদে চাকরি নিশ্চিত করা হয়, যা প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জব ফেয়ারে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মৌখিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন এবং তাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারিক ড্রাইভিং দক্ষতা যাচাই করেন। মূল্যায়ন শেষে মোট ১২৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত সদস্যরা আগামী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। ড্রাইভার পদে মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা এবং ড্রাইভার’স হেলপার পদে ১৭,০০০ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া ট্রাভেল অ্যালাউন্স, আবাসন সুবিধা, কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিদিন এক বেলা খাবার, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, বিজনেস প্রফিট ইনসেনটিভ এবং পারফরম্যান্স বোনাসসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে।
রংপুর ও রাজশাহী রেঞ্জের ১৬টি জেলার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যরা এ জব ফেয়ারে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয় এবং এর ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্মানিত মহাপরিচালক মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় বাহিনীর কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী রূপ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের বাস্তব কর্মপরিবেশে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে চাকরিতে নিয়োজিত সদস্যরা নিয়মিত অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন সদস্যদের টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে দেশের জন্য দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পড়ুন: ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না—ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, বড় সংঘাতের আশঙ্কা!
আর/


