অভিজ্ঞতার দামটা যেন আরও একবার হাতেনাতে দেখিয়ে দিলেন তাইজুল ইসলাম। দলের অন্য বোলাররা যেখানে নিজেদের খুঁজে ফিরছিলেন, সেখানে একাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ৭ উইকেটের দাপুটে স্পেলে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই গুঁড়িয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৭০ রানের লিড নিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ৪১০ রানে।
হারারে টেস্টে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে টাইগাররা। শেষ ২৭ রান করতে গিয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম দিনের খেলা শেষে এক উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান তুলে শক্ত ভিত গড়ে তারা।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় জিম্বাবুয়ে। দিনের শুরুতে খালেদ আহমেদ একটি উইকেট এনে দিলেও এরপর আর খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি টাইগার বোলাররা। মধ্যাহ্নভোজ বিরতির আগে দুই উইকেটে ২৪৯ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া তুলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে আঘাত হানে তাইজুল ইসলাম। ব্রায়ান বেনেটকে ফেরানোর পর সেঞ্চুরিয়ান ইনোসেন্ট কাইয়াকেও দ্রুতই বিদায় করেন। ২২৭ বলে ১৪০ রান করে দলকে দারুণ অবস্থানে রেখে যান কাইয়া। এরপর রান আউটে তাফাদজওয়া টিসিগাকে হারায় জিম্বাবুয়ে। তাতে মাধেভেরে এবং আরভিনের ব্যাটে ৩৫০ রানের সংগ্রহ নিয়ে চা বিরতিতে যায় তারা।
শেষ ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে আরও চেপে ধরে বাংলাদেশ। তাইজুলের স্পিন ভেলকিতে আটকা পড়ে রোডেশিয়ানরা। যদিও ওয়েসলি মাধেভেরে এবং ক্রেইগ আরভিনের ফিফটিতে দলীয় সংগ্রহ ৪০০ পার করে জিম্বাবুয়ে। আরভিন ৬০ রানে আউট হলেও ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন মাধেভেরে।
শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ৪১০ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে ২৭০ রানের পাহাড়সম লিড দাঁড় করায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে একাই ৭ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, আর পেসার খালেদ নিয়েছেন দুই উইকেট। এছাড়া বাকি কোনো বোলার উইকেটের দেখা পাননি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

