টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, বোয়ালখালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়ক, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়ে যায়। আনোয়ারা মেরিন ড্রোডের একাধিক অংশ পানিতে তলিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পটিয়া পৌরসদরের রামকৃষ্ণ মিশন ও খলিলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পটিয়ার কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, খরনা, ভাটিখাইন, ছনহরা, ধলঘাট, শোভনদণ্ডী, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি, কুসুমপুরা, আশিয়া ও কোলাগাঁও ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। একইভাবে চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও বাড়িঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল নামায় খাল ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অনেক এলাকায় পানি নামতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন মৎস্যচাষীরা। বীজতলা, আমন ধানের জমি ও বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সব স্কুল-কলেক প্রশাসনের পরামর্শে স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পড়ুন:ভারমুক্ত হলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মামুন
ইমি/


