বিজ্ঞাপন

মাগুরায় বর্গাচাষির সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দিশাহারা সংখ্যালঘু পরিবার

মাগুরায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮৯ শতাংশ জমি অমল, সুনিল ও সুভাষ রায় নামে তিন ভাইয়ের নামে রেকর্ড হয়। রেকর্ডভুক্ত ওই জমির মধ্যে এক ভাই সুনিল এর অংশ বিক্রি করার কারণে সৃষ্টি হয় সমস্যা। অন্য দুই ভাইয়ের জমি ফিরে পেতে মামলা মোকর্দ্দমা সহ বিভিন্ন সমস্যায় এখন দিশেহারা পরিবারটি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে বর্গা চাষ করে আসছে ধলহরা গ্রামের গোলেবর ও তার ভাইয়েরা। সুভাষ রায়ের বাবা দেবেন্দ্রনাথ রায়ের জমি ওয়ারিশ সূত্রে যখন সুভাষ রায় ও তার ভাইয়েরা পেয়েছে তখন সেই জমিই দেবেন্দ্রনাথ রায়ের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে বলে দাবি করছে দেলোয়ার ও তার তিন ভাই। এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চলছে চরম বিরোধ। এখন জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি কিভাবে দেলোয়ার ও তার ভাইয়েরা মালিক হয়?

অমল, সুনিল ও সুভাষ রায় এই তিন ভাই মাগুরা সদর উপজেলার ধলহরা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র। আর এস জরিপে ১৬২ নম্বর ধলহরা মৌজায় ৮৯ শতাংশ জমির মালিক দেবেন্দ্রনাথ রায়। উক্ত জমি তার তিন পুত্র ওয়ারিশ হিসেবে তাদের নামে রেকর্ড হয়।

ভুক্তভোগী সুভাষ রায় ও তার পরিবার জানায়, ৮৯ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক দেবেন্দ্রনাথ ১৯৯৯ সালে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে আরএস রেকর্ডে দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ওই জমি তার ৩ পুত্র অমল, সুনিল ও সুভাষ রায়ের নামে আরএস রেকর্ডভুক্ত হয়। এরমধ্যে অমল রায় ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করলে ওয়ারিশ হন তার পুত্র সুশান্ত রায়।

এদিকে সুনিল রায় তার অংশের ২৯.৬৬ শতাংশ জমি ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তার স্ত্রী গৌরী রানীর নিকট ৪২৫১ নম্বর দলিল মূলে হস্তান্তর করে দেন। পরবর্তীতে গৌরি রায় ওই জমি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ধলহরা গ্রামের মৃত মালেক বিশ্বাসের পুত্র গোলেবর বিশ্বাস, দেলোয়ার বিশ্বাস, মুজিবর বিশ্বাস ও আইয়ুব বিশ্বাসের নিকট ১১০১ নম্বর কবলা দলিল মূলে বিক্রি করে দেন।

জমি বিক্রির সময় ৮৯ শতাংশ জমির মূল দলিলপত্র সুনিল রায়/ গৌরি রায় এর নিকট থাকায় তাদের হাতে তুলে দিলে ওই দলিলপত্র নিয়ে পুরো ৮৯ শতাংশ জমির উপর সুকৌশলে একটি মিথ্যা বায়নানামা তৈরি করে পুরো জমিই কিনে নিয়েছেন বলে দাবি করছেন গোলেবর, দেলোয়ার, মুজিবর ও আয়ুব বিশ্বাস। যা রীতিমতো জালিয়াতি বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।

তাদের দাবি বাবা মারা যাওয়ার আগে কেনো গোলেবর ও তার ভাইয়েরা জমির দাবি করলো না? এত দিন জমি বগা চাষ করার পরে বাবার মৃত্যুর পর গৌরি রায়ের নিকট থেকে জমি ক্রয়ের পর এখন জমি তাদের বলে দাবি করছে গোলেবর। জমির মূল দলিল হাতে পেয়ে জাল জালিয়াতি ও মিথ্যা বায়নানামা করে এখন তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়াও সুনিল ও গৌরিকে পক্ষে নিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে জমি দখলে নিয়েছে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। অবৈধ দখল থেকে উচ্ছেদ ও জমি ফেরত পেতে মাগুরা সদর থানা সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিরোধীপক্ষ তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি সহ নানা রকম হুমকধামকি দিচ্ছে এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তারা। অমল রায় মারা যাওয়ার পর পৈত্রিক সূত্রে সুশান্ত রায় জমির মালিক হয় যার কারণে তাকেও কয়েকবার আক্রমণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় জমি দখলমুক্ত ও নিরাপদে বসবাসের প্রধানমন্ত্রীসহ জেলা প্রশাসক, মাগুরা-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

এব্যাপারে সুনিল রায় ও তার স্ত্রী গৌরী রায় জানান, তার বাবা মৃত্যুর আগে জমি বিক্রি করেছিলো গোলেবরদের কাছে তাই ভাগের অংশটুকু লিখে দিয়েছে। এসময় সুনিল রায়কে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি জানেন আপনার বাবা জমি বিক্রি করছে তাহলে আপনি ২০১৩ সালের জুলাই মাসে কেনো জমি হস্তান্তর করলেন? এমন প্রশ্নে এড়িয়ে তিনি বলেন অন্য ভাইয়েরা লিখে না দিলে সেটা তাদের ব্যাপার।

গোলেবরের ভাই দেলোয়ার বিশ্বাস জানান, দেবেন্দ্রনাথ রায় বেচে থাকতে তাদেরকে ৪৫ হাজার টাকায় জমি বিক্রি করে দিয়ে যায়। তখন লিখে নিতে পারিনি তবে বায়নানামা করে দিয়েছিলেন দেবেন্দ্রনাথ। যদিও বায়নানামাটি দেখাতে চাননি তিনি। এবিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং জমি উপর ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।

সালিশের পর গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও পুলিশ সদস্যরা জানায়, জমি নিয়ে ঝামেলার সমাধান হয়নি। এটি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আপাতত ওই জমিতে ১৪৪ জারি রয়েছে।

পড়ুন : বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন