বিজ্ঞাপন

১০০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) থেকে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। দেশীয় মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তবে তুলনামূলক কঠিন শর্ত এবং বেশি সুদের হার হওয়া সত্ত্বেও সরকার এই ঋণ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের ‘অনমনীয় ঋণ-সংক্রান্ত কমিটি’ সম্প্রতি এই ঋণ অনুমোদন করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এর আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় আইএসডিবি ঋণ প্রদানে সম্মতি জানায়।

জানা গেছে, ঋণটি আইএসডিবির লিজ ফাইন্যান্সিং মডেলের আওতায় দেওয়া হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আন্তর্জাতিক সুদের হার নির্ধারণী সূচক ‘সোফর’ (Secured Overnight Financing Rate বা SOFR)-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৬০ শতাংশ স্প্রেড যোগ হবে। বর্তমানে সোফর হার প্রায় ৫ শতাংশ হওয়ায় মোট সুদের হার দাঁড়াবে প্রায় ৬ দশমিক ৬০ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। যা অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার রেয়াতি ঋণের তুলনায় বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইআরডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সহজ শর্তে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় সরকার এখন বাজারভিত্তিক এবং তুলনামূলক ব্যয়বহুল ঋণের দিকেও যেতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের সামষ্টিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারির তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা সীমিত থাকলেও নতুন ইউনিট চালু হলে তা বছরে ৩০ লাখ টনে উন্নীত হবে। এতে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দেশে পরিশোধনের সুযোগ বাড়বে এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্পখাতের চাহিদা পূরণেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উচ্চ সুদের এই ঋণের আর্থিক চাপ ভবিষ্যতে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পড়ুন:এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন