বিজ্ঞাপন

যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম

যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। মাঠ প্রশাসনে দক্ষতা, জনবান্ধব উদ্যোগ এবং সেবামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে একজন সক্রিয় প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তার এ পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নাগরিক সেবা সহজীকরণ, শিক্ষা, পরিবেশ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে একের পর এক উদ্যোগ নেন তিনি।

জনসাধারণকে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করতে উদ্যােগ নেন ‘হ্যালো ডিসি’ নামক সরাসরি নাগরিক সেবার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ, পরামর্শ এবং বিভিন্ন সেবাসংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় উদ্যোগটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে রাজধানীর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের উদ্যোগ নেন তিনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তিন রঙের বিন ব্যবহার করে বর্জ্য পৃথকীকরণের ধারণাও দেওয়া হয়।

‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে নাগরিক দায়িত্ববোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাজধানীর আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন ফরিদা খানম। একই সঙ্গে এলাকাটি পরিচ্ছন্ন করে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকারি খাস জমি দখল করে টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় গড়ে তোলা হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে এবং রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় অবৈধ দখলমুক্ত করে ওয়াকফের ১৩ দশমিক ০৮ শতক জমি উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা, ম্যাজিস্ট্রেসি তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারের নির্দেশনা দেন।

মানবিক প্রশাসনের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, অসহায় ব্যক্তি এবং চিকিৎসাসহায়তাপ্রত্যাশীদের পাশে দাঁড়ান ফরিদা খানম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

রাজধানীর যানজট নিরসনে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় স্থানান্তরের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেন। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে একাধিক পরিদর্শনেও অংশ নেন তিনি।

এর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসেন। নিয়মিত বাজার তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং জনমুখী প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ফরিদা খানম একজন কার্যকর প্রশাসক হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতির মধ্য দিয়ে তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশের বৃহত্তর প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন