জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে জেলার বিভিন্ন রুটে জবরদখল, সড়কে চাঁদাবাজিসহ শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত উপজেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এসব কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং-২২০) ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচীতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুই শতাধিক পরিবহন শ্রমিক অংশ নেন। এ সময় মহাসড়কের দুইপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এক ঘন্টা পর মানবন্ধন শেষে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাড়ালে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ওই মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি দেলোওয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল গণি ইসরাইল প্রমূখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন ৫ আগস্টের পট পরিবর্তের পর নীলফামারী জেলার অশ্রমিকদের নিয়ে নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং-৩৪৪৬)-এর নামে একটি ভুইফোড় সংগঠন গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটি বিভিন্ন বাস কাউন্টার, স্ট্যান্ড ও রুটে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন উপজেলায় উপ-কমিটি গঠন করে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
তারা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা এর আগে একাধিকবার শ্রম পরিচালক, রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ, ১৭ মে ও ৭ জুলাই পৃথক অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ আরো বৃহত্তম কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।
পড়ুন:হামে মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ
ইমি/


