রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান রংপুরের তাজহাট থানার ওসি বরাবার লিখিত আবেদন করেন।
চিঠিতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ আরও ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় তারা রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ ৪ আগস্ট ক্যাম্পানের প্রধান গেইটে বাংলাদেশ ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একই জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সভা সমাবেশের ডাক দেয়ায় ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাদের হামলার অভিযোগ উঠে। পরে এ নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিবির। সেখানে জুডিসিয়াল কিলিং শিরোনামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়াও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল।
শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি সরাতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরবসহ কয়েকজন শিবিরের এক কর্মীকে লাথি মারেন। পরে গাছের ডাল ভেঙে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেন। এসময় শিবির নেতা মেহেদী হাসানকে স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয়।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক মাঠে অবস্থান নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। আর মূল ফটকের দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এসময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে শান্ত করেন। এ সময় বস্তায় করে ভাঙা ইট নিয়ে আসেন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা। এক পর্যায়ে তিনি শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যান।
শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আমরা একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করেছি। সেখানকার একটি ব্যানার নিয়ে ছাত্রদল আপত্তি করে, তারা প্রশাসনকে না জানিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে যায় এবং আমাদের ওপর আক্রমণ করে। সবকিছু সমাধান করার চেষ্টা করছি, কিন্তু যদি কোনো কিছু ঘটে তার দায় ছাত্রদলকে নিতে হবে।’
এদিকে ছাত্রদলের মো. ইয়ামিন অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই ব্যানার সরানোর জন্য দাবি জানালে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা করা হয়। এতে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন।
এ বিষয়ে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, যারা মারামারির পেছনে জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে খুব শিগগির ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পড়ুন : আবারও বাড়ল আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম
সা/


