ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার বিশালপাড়া নদীভাঙন এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আবু হানিফা, সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কাজী, মহিলা নেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনের কারণে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে বর্তমানে ভাঙন চলছে। গত ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে নেই।
তিনি বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ শুধু জমি হারান না, হারিয়ে ফেলেন শৈশবের স্মৃতি, সামাজিক বন্ধন ও জীবনযাপনের ভিত্তিও। অনেক পরিবার এখনো জানে না, বন্যার সময় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে কিংবা গবাদিপশু ও শিশুদের কীভাবে নিরাপদে রাখবে।
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু আরও বলেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
তিনি দাবি করেন, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার দুই কোটিরও বেশি মানুষ নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এ বাস্তবতায় পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি।
সমাবেশ থেকে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন টেকসই হবে না।
পড়ুন: বাশখালীতে বন্যার্ত মানুষের পাশে ইনার হুইল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮ বাংলাদেশের ৩৫ ক্লাব


