ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নে গভীর রাতে একটি বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে বাড়ির মালিক শাহিনুর ইসলামকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের দেপাশাই দত্তখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) দেবাশীষ সানা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন শাহিন (২৮) ও মাসুম (৩০) নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাতরা বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা শাহিনুর ইসলামের মায়ের কক্ষে ঢুকে নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। পরে শাহিনুর ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন নেওয়ার সময় তার সঙ্গে ডাকাতদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শাহিনুরকে কুপিয়ে আহত করে এবং লুট করা মালামাল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ধামরাইয়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর আগের রাতেই উপজেলার একটি গার্লস কলেজে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) দেবাশীষ সানা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য । তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : এক হাতে বই, অন্য হাতে বাদামের ঝুড়ি; ছোট্ট মাহিমের কাঁধে সংসারের ভার


