নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। এতে ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। টিকিটাকা ও গতিময় ফুটবলের সমন্বয়ে তারা টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে। তবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামা আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমন পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হলো, যেগুলোর ওপর ভর করে স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে আলবিসেলেস্তেরা।
লিওনেল মেসির অতিমানবীয় ফর্ম
৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার প্রধান ভরসা। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ৮ গোলের পাশাপাশি তিনি করেছেন ৪টি অ্যাসিস্ট। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল হওয়ায় শিরোপা জয়ের বাড়তি অনুপ্রেরণাও থাকবে তার। ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দেওয়ার সামর্থ্যই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা
স্পেনের ফাইনালে ওঠার পথ ছিল তুলনামূলক মসৃণ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে কঠিন লড়াই করেই শেষ ম্যাচে পৌঁছাতে হয়েছে। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিশর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। কঠিন পরিস্থিতিতে স্নায়ুচাপ সামলে জয়ের অভিজ্ঞতা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।
বিধ্বংসী আক্রমণভাগ
স্পেন রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত হলেও আর্জেন্টিনা খেলছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। চলতি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৯টি গোল করেছে দলটি। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে স্পেনের রক্ষণভাগে ভাঙন ধরাতে সক্ষম।
মাঝমাঠের কৌশল ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক
স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি ও পেদ্রিকে নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষ কৌশল নিতে পারেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। রদ্রিগো ডি পল ও এনজো ফার্নান্দেজ যদি কার্যকরভাবে পাসিং লেন বন্ধ করতে পারেন, তাহলে বল দখল করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। স্পেনের উইঙ্গাররা আক্রমণে উঠে গেলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাও কাজে লাগাতে পারে আর্জেন্টিনা।
গ্যালারির সমর্থন ও মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অধিকাংশ দর্শক আর্জেন্টিনার সমর্থক থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দলটি অনেকটা হোম ম্যাচের আবহ পাবে। পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বড় মঞ্চে সাফল্যের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস স্কালোনির দলকে মানসিকভাবে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।


