দিনাজপুরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে শহরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত পৌনে ১টার দিকে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।
আটক ব্যক্তি গোলাম মুর্শিদ (৩০)। তিনি বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি দিনাজপুর জজ কোর্টে এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী গোলাম মুর্শিদ ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যায় চাচার ব্যক্তিগত গাড়ি মেরামতের জন্য শহরের মির্জাপুর টার্মিনাল এলাকার একটি গ্যারেজে যান তিনি। রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী ফোন করে তাঁকে কলেজ মোড়ে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছালে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মী আব্দুল্লাহ আল আমান সুজন, আসিফ শাহরিয়ার চৌধুরী ও সৈয়দ রানা ইসলাম তাঁকে আটক করে সরকারি কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে নিয়ে যান।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে জানাজানি হলে রাত পৌনে ১টার দিকে কলেজের উত্তর গেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মী ও সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমান সুজন বলেন, গোলাম মুর্শিদ দীর্ঘদিন ধরে বীরগঞ্জ থেকে পালিয়ে শহরে অবস্থান করছেন এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক করে আসছেন। শনিবার রাতে তিনি আরও তিনজনকে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে ছিলেন। সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের আটক করতে গেলে অন্য তিনজন পালিয়ে যান। পরে মুর্শিদকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া হাবিব জনিও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, “বীরগঞ্জ থেকে কয়েকজন শহরে এসে মিছিল করে চলে যাচ্ছিল। দুই দিন আগে পাঁচবাড়ী এলাকায় হওয়া একটি মিছিলেও গোলাম মুর্শিদ ছিলেন, এর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। সে কারণেই কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়। এত মানুষের সামনে কাউকে চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান বলেন, “ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। রাতে হাসপাতালে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : যে পাঁচ কারণে স্পেনকে হারাতে পারে আর্জেন্টিনা
সা/


