বিজ্ঞাপন

আনোয়ারায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি নিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গোপনে তালিকা প্রেরণ এবং সভাপতি পদে জামায়াতের এক নেতাকে মনোনীত করতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অঅভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সভাপতি পদের জন্য আবেদন আহ্বান করলে ছয়জন প্রার্থী জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রধান শিক্ষকের তিনজনের নাম সুপারিশ করার কথা থাকলেও গত ১৫ জুলাই সংসদ সদস্য সরওয়ার আলম নিজামের নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের শহীদুল ইসলামকে তালিকায় প্রথম, নুরুল আলমকে দ্বিতীয় এবং আহমদ ছফাকে তৃতীয় রেখে তিন সদস্যের একটি তালিকা গোপনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠান। তালিকা পাঠানোর পর এক প্রার্থীকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় প্রধান শিক্ষক লেখেন, “সালাম নিবেন, এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। ধন্যবাদ।”

এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সভাপতি হিসেবে যাকে সংসদ সদস্য সুপারিশ করেছেন তিনি চাতরী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, বিধি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা বিবেচনা না করে গোপনে তিন সদস্যের একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক প্রার্থী প্রতিবাদ জানিয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন এবং নতুন করে সবার মতামতের ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়নের দাবি তুলেছেন।

সূত্রে জানা যায়, শহীদুল আলম ২০১২ সালে চাতরী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় আরেক জামায়াত নেতা কাজী হেলালের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তবে তিনি সংগঠন থেকে পদত্যাগ বা দল ছাড়ার কোনো আবেদন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে জমা দেননি। পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময়েও তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কার্যক্রমে অনুদান দিয়েছেন, ছাত্রশিবিরকে বই উপহার দিয়েছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুহাম্মদ কামরুজ্জামান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাষ্টার আবদুল গণি বলেন, শহীদুল আলম ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাতরী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে এক কর্মীর সঙ্গে বিরোধের পর তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি বিএনপিতে সক্রিয় থাকলেও সংগঠন ছাড়ার বিষয়ে কোনো আবেদন দায়িত্বশীলদের কাছে জমা দেননি।

সভাপতি পদপ্রার্থী নুরুল আলম বলেন, আমাকে না জানিয়ে আমার এক জুনিয়রকে প্রথমে রেখে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমি তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছি। সব প্রার্থীর মতামত নিয়ে নতুন তালিকা পাঠানোর দাবি জানাচ্ছি।

আরেক সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা অভিযোগ করে বলেন, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পর থেকেই একজন প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে আসছেন। প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো বৈঠক না করে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক তালিকা পাঠিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, স্থানীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের মতামত নিয়ে উনার নির্দেশনা মতে ৩ জনের নামের একটি তালিকা জমা দিয়েছি। পাঠানো এ তালিকায় অন্য সভাপতি প্রার্থীও সন্তুষ্টু নয় এবং তালিকার মধ্যে নাম থাকা একজন প্রার্থী ও সন্তুষ্ট নয়। তিনি তালিকা থেকে তার নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র বসু বলেন, এডহক কমিটির তালিকা নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে নতুন তালিকা জমা দেওয়া হবে।

পড়ুন:স্ক্রিপ নেটিং সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে বিএসইসিকে স্মারকলিপি

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন