পিকআপ চালকের ইটের আঘাতের ৩১ দিন পর জয়পুরহাটে অরুন দেবনাথ নামে এক পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীর মৃত্যুর অভিযোগে উঠেছে। তবে তার মৃত্যুর পেছনে অসুস্থতা নাকি ইটের আঘাত দায়ী- তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম করাতে চায় পুলিশ। অপরদিকে নিহতের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
নিহত অরুন কুমার দেবনাথ (৫২) শহরের সবুজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি জেলার পুরানাপৈল আরাফাত ফিলিং স্টেশনে অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন।
পরিবার ও মামলা সুত্রে জানাগেছে, গত জুন মাসের ২১ তারিখে বিকেল ৪টায় সদর উপজেলার পুরানাপৈল আরাফাত ফিলিং স্টেশনে পিকআপ নিয়ে তেল নিতে আসে আসামী পিকআপ চালক লাভলু । ওই সময় পাম্পে ডিউটিতে ছিলেন সেখানকার কর্মচারী অরুন কুমার দেবনাথ। তখন পাম্পে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আসামীকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। আসামী তাকে জেনারেটর চালু করতে বললে ‘মালিকের অনুমতি ছাড়া জেনারেটর অন করতে পারবেন না বলে জানান তিনি। এতে আসামী উত্তেজিত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামী তাকে ইট দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিরি গুরুতর আহত হন। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ীতে ফিরে আসলেও পুররায় তিনি অসুস্থবোধ করলে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার ৩১ দিন পর তিনি মারা যান। ঘটনার পরের দিন জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাতিজা শ্রবন দেবনাথ।
জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভিকটিমের স্বজনরা অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ময়নাতদন্ত না করার জন্য অনুরোধ করছেন। তবে মামলা তদন্তের স্বার্থে এটি ফরেনসিক বা ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি যে, পূর্বে মাথায় আঘাতের কারণে মৃত্যুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে কি-না? নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলেছি এবং আইনি বাধ্যবাধকতার জায়গা থেকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।
পড়ুন : ফকিরহাটে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ, টেস্টে অনিহা বেশিরভাগ রোগীর


