“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। কোনো অবস্থাতেই সচ্ছল ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে না। কৃষক কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।”
নেত্রকোনা কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এসব কথা বলেন।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
শিক্ষিত যুবসমাজকে কৃষিতে আকৃষ্ট করার ওপর জোর দিয়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ধানের ফলন বাড়ানোর বিকল্প নেই। বর্তমানে শিক্ষিত যুবসমাজ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিক প্যান্ট-শার্ট পরা তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হলে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষির আধুনিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।”
রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “যন্ত্রের মাধ্যমে মাত্র ৪০ সেকেন্ডে চার সারি চারা রোপণ করা হচ্ছে, তাও আবার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। এটি ফলন বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।”
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ব্রি’র সফলতার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান যখন নিম্নগামী, তখন ‘ব্রি’-ধান প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বগামী সাফল্য দেখাচ্ছে। হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় আমরা এমন ধানের জাত চেয়েছিলাম যা আগে পাকবে। ‘ব্রি’-ধান অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে হাওরের উপযোগী স্বল্পকালীন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধান হচ্ছে কৃষকের প্রাণ, দেশের প্রাণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানি নয়, বরং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো বিদেশে চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই।”
কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব কার্ডে অনিয়ম পাওয়া যাবে, তা সাথে সাথে বাতিল করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় আমি কোনো অনিয়ম হতে দেব না।”
খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনুষ্ঠানের শেষাংশে সরকারের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় লেংগুরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনশো শিক্ষার্থীর মাঝে নিম, পেয়ারা ও মেহগনি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। শেষে ডেপুটি স্পিকার নিজে লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
পড়ুন : ধামরাইয়ে অবৈধ ব্যাটারি গলানোর কারখানায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা


