স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধনী-গরীব সকলের জন্য একই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।
৩০ বছর ধরে চক্ষু সেবার সাথে যুক্ত আছি। আগের দিনেও আমরা গ্রামে যেতাম, চক্ষু ক্যাম্প করতাম, বীনামূল্যে চক্ষুশিবির হতো। সেখানে এমনকি ক্যাম্পের মধ্যে মানুষের ছানি অপারেশন হতো। সেখান থেকে আজকে যখন এখানে এসেছি, আমি আর চোখের ক্যাম্প দেখিনা, আমি আর দারিদ্র দেখিনা, আমি দেখি সম্ভাবনার বাংলাদেশ যেখানে আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ধনি-গরীব সকলের জন্য একই স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরে জামিরতা ভিশন সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুরানো বন্দোবস্তে আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে বলেন, যারা জনপ্রতিনিধি হবে আমরা চাই তারা নির্ধারিত সময়ের জন্য আসবেন, ক্ষমতার জন্য নয়, দায়িত্ব নিতে আসবেন, মানুষের জন্য কাজ করবেন এবং দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে আমরা দেখবো তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স ১ টাকা হলেও কমে গেছে।
তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এখনো যারা পুরনো বন্দ্যোবস্তে ফিরে আসতে চায় তারা কিন্তু থেমে নেই। কেউ দেশের ভেতরে আছে, কেউ দেশের বাইরে হয়তো পালিয়ে গেছে তবে তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই। তারা বিভিন্ন ছোটখাটো ইস্যুকে কেন্দ্র করে উষ্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা চাই এদেশে মধ্যপন্থা যেখানে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারে, কেউ কেউ চায় উগ্রপন্থা। কোন উগ্রপন্থাকে সমর্থন দেওয়া যাবেনা। আমরা চাই এদেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে, কেউ কেউ চায় আমাদের মাদেরকে-বোনদেরকে-মেয়েদেরকে ঘরে বন্দী করে রাখতে। আমরা চাই সবাই যোগ্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে, কেউ এসে এখানে নবাবী আর জমিদারি করতে পারবে না। আমরা চাই এদেশ সবার ,সবাই সমান অধিকার নিয়ে এগিয়ে যাক।
প্রফেসর এমএ মতিন আই কেয়ার সিস্টেমের সাধারন সম্পাদক আল মামুনের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, অরবিস ইন্টারন্যাশনালে কান্ট্রি ডিরেক্টর ডাঃ মুনীর আহমেদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিতের সহধর্মীনি স্থপতি ফাহমিদা মুহিত প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জামিরতা ভিশন সেন্টারের উদ্বোধন শেষে বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রা শুরু করা এই ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে এখানে বসেই রোগীরা বিদেশের ডাক্তারদের চিকিৎসা পাবে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীদের এই হাসপাতালের মাধ্যমেই উন্নত দেশের চিকিৎসকদের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে।
পড়ুন : সিএনজি চালক বাবার ঘামের-শ্রমে ছেলে এখন ৪৬ ও ৪৭তম বিসিএসের ক্যাডার


