আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। দুই দেশের আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে—এমন প্রত্যাশায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও কমেছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে এ পতন দেখা যায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ছিল প্রায় ৮৮ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। আগের দিনের ৯১ দশমিক ৬৮ ডলারের তুলনায় এর দাম ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কমে যেতে পারে—এমন উদ্বেগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলে তেলের দাম কমতে শুরু করে।
সোমবার ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে তারা পাল্টা সামরিক অভিযানও স্থগিত করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে আবারও কাজাখস্তানের অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে বাজারে কিছুটা সতর্কতা এখনো রয়েছে। কারণ ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের সৌদি আরামকো-সংশ্লিষ্ট জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
পড়ুন: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের তাণ্ডব : শিশুসহ নিহত ৩০
আর/


