নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজির হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের ওপর হামলার মামলায় নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন আইভী। শুনানি শেষে বিচারক তার পূর্বের জামিন বহাল রাখেন। পাশাপাশি আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি দেন।
শুনানিতে আইভীর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইভী দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন, বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার পরিবর্তে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।
আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে ভবিষ্যৎ শুনানিতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার অনুমতি প্রদান করেন।
শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, “আমি নির্দোষ হয়েও অপরাধী। আমি সবসময় নারায়ণগঞ্জে হত্যা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আজ আমাকেই অপরাধী করা হয়েছে। যাই হোক, এর বিচার আল্লাহ করবেন। আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছে, তারাও সব দেখবে।”
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া সদর মডেল থানার মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী আদালতে হাজিরা দেন। আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রেখেছেন। এ মামলায় আইভী সহ ৬৯জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র শুনানি শেষে গৃহীত হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগ এলাকার ‘চুনকা কুটির’ থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করতে গেলে রাতভর পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে ভোরে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সমর্থকেরা পুলিশকে বাধা দেন এবং পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আইভীকেও আসামি করা হয়েছে।
প্রার বছর খানেক কারাগারে থেকে এবছর ৩জুন মুক্তি পান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আইভী । এ মামলা ছাড়াও ২৪এর ৫ আগষ্টের পরবর্তী সময়ে হত্যা সহ মোট ১১টি মামলা আইভীর নামে দায়ের করা হয়। বর্তমানে সব গুলো মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি।
পড়ুন : একদিনেই ১০ শতাংশের বেশি কমল জ্বালানি তেলের দাম
সা/


