অ্যাপ স্টোরে থাকা একটি ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট অ্যাপ ব্যবহার করে প্রায় ১৮ লাখ ডলার হারানোর অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিন ব্যবহারকারী। তাদের অভিযোগ, নিরাপদ অ্যাপ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিলেও প্রতারণামূলক অ্যাপ শনাক্ত ও অপসারণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘স্প্যারো ওয়ালেট’ নামে একটি ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে নিজেদের বিটকয়েন জমা রাখেন। পরে প্রতারকরা ওই অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সব ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নেয়।
আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, জেমস রামিরেজ প্রায় ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, ক্রিস্টোফার এলিস প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং জ্যালেন ডেলগাডো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১৮ লাখ ডলারেরও বেশি।
বাদীপক্ষের দাবি, অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করে আসছে যে অ্যাপ স্টোরে প্রকাশের আগে প্রতিটি অ্যাপ কঠোরভাবে যাচাই করা হয়। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেই তারা সংশ্লিষ্ট অ্যাপটি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে প্রতারণামূলক অ্যাপটি অ্যাপ স্টোরে থাকার কারণে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসল স্প্যারো বিটকয়েন ওয়ালেটের নির্মাতারা আগেই অ্যাপলকে ভুয়া অ্যাপের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এরপরও ওই অ্যাপগুলো কিছু সময়ের জন্য অ্যাপ স্টোরে উপলব্ধ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রতারণার শিকার হন।
ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতের কাছে তাদের হারানো অর্থ ফেরত, অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে অ্যাপ স্টোরে থাকা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের আরও স্পষ্টভাবে সতর্ক করার নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জুরি বোর্ডের মাধ্যমে মামলার বিচারও চেয়েছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অন্যের পরিচয় বা ব্র্যান্ড নকল করে তৈরি অ্যাপ তাদের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এমন কোনো অ্যাপ শনাক্ত হলে দ্রুত তা অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে অ্যাপ স্টোরে স্প্যারো ওয়ালেটের কোনো ভুয়া সংস্করণ নেই বলেও দাবি করেছে কোম্পানিটি।
অ্যাপলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই অন্য অ্যাপের অনুকরণ, স্প্যাম বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকার কারণে ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি অ্যাপ প্রকাশের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই মামলার পর অ্যাপ স্টোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অ্যাপ যাচাই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পড়ুন:সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ইমি/


